বড়দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
![]() |
| ইউক্রেনের ডনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার মিসাইল হামলার পর ঘটনাস্থলে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: স্টেট ইমারজেন্সি সার্ভিস অফ ইউক্রেন/রয়টার্স |
বড়দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: এক শোকাবহ দিন
২০২৪ সালের বড়দিনের সকালে, যখন ইউক্রেনের মানুষ উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন দেশজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসযজ্ঞ তাদের শান্তি ও আনন্দের মুহূর্তগুলো চুরমার করে দেয়। রাজধানী কিয়েভসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ, ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক, এবং অন্যান্য শহরে এই হামলা চালানো হয়।
হামলার প্রধান লক্ষ্য
হামলাগুলোতে রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো। এতে দেশের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে জ্বালানি সরঞ্জামের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর সের্হি লিসাক। রাজধানী কিয়েভেও অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পরিসংখ্যান
খারকিভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ছয়জন আহত হন। আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিটিইকে, ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বেসরকারি জ্বালানি কোম্পানি, জানিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনায় বড় ধরণের আঘাত লেগেছে।
বড়দিনে বিষাদের ছায়া
বড়দিনের আনন্দময় পরিবেশ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে বিদ্যুৎ এবং নিরাপত্তার জন্য দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছে। গির্জা ও ঘরে প্রার্থনা করার সময়েও তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়েছে নতুন হামলার শঙ্কায়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই বর্বরোচিত হামলার নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের ওপর আঘাতের জন্য রাশিয়ার সমালোচনা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা।
যুদ্ধের অমানবিক রূপ
এই হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধ কেবল সামরিক নয়; এটি মানবতার ওপর গভীর আঘাত হানে। বড়দিনের দিনেও যুদ্ধের শিকার হয়েছে ইউক্রেনের নিরপরাধ মানুষ।
এই বর্বর হামলা কেবল ইউক্রেন নয়, গোটা বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক প্রভাব এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা।
.jpg)
No comments:
Post a Comment