Tuesday, December 31, 2024

মরদেহকে মাটিতে রূপান্তরিত করছে এই বিশেষ যন্ত্র, যা পরে বাড়িতে এনে গাছ লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

 মরদেহকে মাটিতে রূপান্তরিত করছে এই বিশেষ যন্ত্র, যা পরে বাড়িতে এনে গাছ লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

         এ ধরনের ক্যাপসুলের মাধ্যমে মরদেহকে পরিণত করা হয় মাটিতে।

লরা মাকেনহোপট নিজের ২২ বছর বয়সী ছেলে মাইলের মরদেহ ট্রাকে করে বাড়ি আনেন। তবে এটি যে তার ছেলে, তা বোঝার উপায় ছিল না। কারণ মাইলের দেহ মাটিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি প্রতিষ্ঠান তার ছেলের দেহকে প্রায় দেড়শ কেজি মাটিতে পরিণত করে দেয়। এই মাটি নিয়ে লরা বাড়ি ফেরেন এবং পরে তা বাড়ির আঙ্গিনায় রেখে সেখানে ফুলের গাছ রোপণ করেন।

আর্থ ফিউনারেল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতিটি পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও টম হ্যারিস জানিয়েছেন, “মৃতদেহ কবর দেওয়ার পর যেমন ধীরে ধীরে মাটিতে পরিণত হয়, আমরাও ঠিক একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করছি। তবে আমরা এটি ত্বরান্বিত করছি। এই পদ্ধতি জলবায়ু ও পৃথিবীর জন্য উপকারী, কারণ দাহ করার ফলে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, তার তুলনায় এটি অনেক কম। পাশাপাশি কবরস্থ করার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।”

মাইলের মরদেহ থেকে তৈরি মাটি তার বাড়ির বাগানে রাখা হয়েছে। সেই মাটিতে একটি গোলাপ গাছ লাগানো হয়েছে। তার বাকি মাটি রাখা হয়েছে মাইলের প্রিয় চেয়ারটির পাশে, যা তার পরিবারের জন্য বিশেষ স্মৃতির স্মারক হয়ে উঠেছে।

মাইলের মা লরা মাকেনহোপট বলেন, “যখনই গোলাপ ফুলটির কুঁড়ি দেখি, এটি আমার জন্য বিশেষ অনুভূতি নিয়ে আসে। মনে হয়, মাইল যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে এসেছে। এটি সত্যিই এক অনন্য উপহার। দাহ বা কবর দেওয়ার চেয়ে এই পদ্ধতিটি একেবারে আলাদা। ওই প্রক্রিয়াগুলোতে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মাটিতে পরিণত করার মাধ্যমে নতুন একটি গল্প শুরু হয়।”

মরদেহ কীভাবে মাটিতে রূপান্তরিত হয়

‘আর্থ ফিউনারেল’-এর সিইও টম হ্যারিস জানান, এই পদ্ধতি তার নিজের মৃত্যুর বিষয়ে চিন্তা থেকে উদ্ভাবিত। তিনি চাননি তার মরদেহ দাহ করা বা কবর দেওয়া হোক।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে দাহ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় (প্রায় ৬০ শতাংশ), কারণ এটি কবর দেওয়ার তুলনায় সাশ্রয়ী। তবে দাহ করার ফলে কার্বন নিঃসরণ হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে, কবর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিকও পরিবেশের ক্ষতি করে।

এই পদ্ধতিতে কাঠের টুকরো, গাছের শিকড়, ভেজা খড়, পাতা এবং বনফুল ব্যবহার করে মরদেহকে মাটিতে রূপান্তরিত করা হয়। মরদেহটি একটি জীবাণুবিয়োজ্য কাফনে মুড়ে বিশেষ লোহার ক্যাপসুলে রাখা হয়। এরপর নির্ধারিত তাপমাত্রায় এটি ৪৫ দিনে মাটিতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় মরদেহ থেকে নাইট্রোজেন নির্গত হয় এবং কাঠ বা শিকড় থেকে কার্বন বের হয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মরদেহ মাটিতে পরিণত হয়।

একটি দেহ থেকে প্রায় দেড়শ কেজি মাটি পাওয়া যায়। পরিবার চাইলে এই মাটির একটি অংশ নিতে পারে। অবশিষ্ট অংশ ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়ার সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকায় পাঠানো হয়, যেখানে এটি গাছপালা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

                                            কাঠের খণ্ড, বনফুল এবং গাছের শিকরের ভেজা খড় ও পাতা মরদেহকে মাটিতে পরিণত করতে সহায়তা করে।



No comments:

Post a Comment

ইসরায়েলিদের গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তাব ইরানি মন্ত্রীর

  ইসরায়েলিদের গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তাব ইরানি মন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার সাধারণ মানু...